শিরোনাম
একজন রূপকার—প্রোফেসর যোগেশ সিং লায়ন্স ও লিও ক্লাব অনির্বাণের চার্টার প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত তালায় মাদকের তথ্য দেওয়ায় গ্রাম পুলিশকে পেটাল মাদক কারবারিরা, জিডি চন্দনাইশে খুনিয়া পাড়া ইয়াং সোসাইটির অলিম্পিক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন  পোরশায় মাদকবিরোধী অভিযানে ০১ জন পেশাদার খুচরা মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার-২৫০ গ্রাম গাঁজা জব্দ।  ইন্দোরে শুরু হলো ১৮তম ভারতীয় সাংবাদিকতা উৎসব ২০২৬: মূল ভাবনা ‘জেন-জি’, সম্মানিত সংবাদমাধ্যমের কিংবদন্তিরা। পোরশায় আদিবাসী সমাবেশ ও ত্রি-বার্ষিক সমাবেশ ২০২৬ অনুষ্ঠিত।     নীলফামারীতে বিজিবির অভিযানে ১৮ পিস ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আটক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের লক্ষে নিতপুর দারুস সুন্নাহ সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় এক মা সমাবেশ ২০২৬ অনুষ্ঠিত।  হাজরাকাটি ব্লাড ডোনার্স ক্লাবের ১ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও আলোচনা সভা
বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ন

দক্ষিণ কোরিয়া খাদ্যবর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে

রিপোটারের নাম / ১৩৬ বার পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

 

এইচটি বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকরা নির্দিষ্ট বিনের স্ক্যানারে কার্ড পাঞ্চ করে ফেলতে আসা বর্জ্য পরিমাপ করেন। সে অনুযায়ী তাদের নিজস্ব হিসাবে সরাসরি ফি যোগ হয়। ২০২৫ সালের সরকারি তথ্য অনুসারে, দেশজুড়ে প্রায় ৮৬ লাখ পরিবার ১ লাখ ৫১ হাজারের বেশি স্মার্ট বিন ব্যবহার করছে। কতটা বর্জ্য ফেলছেন ও এর জন্য কত টাকা দিতে হচ্ছে, তা জানার সুযোগ থাকায় খাবার অপচয়ও কমেছে

খাদ্যবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। মাত্র তিন দশকের ব্যবধানে বাসাবাড়ির পচনশীল খাদ্যবর্জ্যের ল্যান্ডফিল ডাম্পিং হার ৯৭ শতাংশ থেকে প্রায় শূন্যে নামিয়ে এনেছে দেশটি। বর্তমানে তাদের দেখানো মডেল অনুসরণ করে বর্জ্য সংকটের সমাধান খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মেগাসিটি নিউ ইয়র্ক।

দক্ষিণ কোরিয়ায় খাদ্যবর্জ্য কমানোর মূল চাবিকাঠি উচ্চপ্রযুক্তির স্মার্ট বিন ও রেডিও-ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) স্ক্যানার প্রযুক্তি। দেশটির নাগরিকরা নির্দিষ্ট বিনের স্ক্যানারে কার্ড পাঞ্চ করে ফেলতে আসা বর্জ্য পরিমাপ করেন। সে অনুযায়ী তাদের নিজস্ব হিসাবে সরাসরি ফি যোগ হয়।

২০২৫ সালের সরকারি তথ্য অনুসারে, দেশজুড়ে প্রায় ৮৬ লাখ পরিবার ১ লাখ ৫১ হাজারের বেশি স্মার্ট বিন ব্যবহার করছে। কতটা বর্জ্য ফেলছেন ও এর জন্য কত টাকা দিতে হচ্ছে, তা জানার সুযোগ থাকায় খাবার অপচয়ও কমেছে।

দ্রুত নগরায়ণের কারণে ১৯৯০-এর দশকে দক্ষিণ কোরিয়ায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বড় সংকটে পড়েছিল। সাধারণ বর্জ্যের সঙ্গে খাদ্যবর্জ্য মিশিয়ে ফেলার কারণে ল্যান্ডফিল ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থায় চাপ বাড়ছিল। এরপর ধাপে ধাপে খাদ্যবর্জ্য আলাদা করা ও পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা গড়ে তোলে দেশটি। ১৯৯৬ সালে খাদ্যবর্জ্য পুনর্ব্যবহারের হার ছিল মাত্র ২ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা বেড়ে প্রায় ৯৭ শতাংশে পৌঁছেছে।

সংগৃহীত এ বিপুল পচনশীল বর্জ্য ফেলে না রেখে তা থেকে উৎপাদিত হচ্ছে বায়োগ্যাস ও বিদ্যুৎ। দক্ষিণ কোরিয়ার পরিবেশবান্ধব বায়ো-এনার্জি সেন্টারগুলো এসব বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে হাজার হাজার পরিবারের জ্বালানি ও বিদ্যুতের চাহিদা মেটাচ্ছে। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে আনুমানিক ১৭ কোটি ডলারের জীবাশ্ম জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে দেশটির সরকার।

দক্ষিণ কোরিয়ার এ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মডেল এখন নিউ ইয়র্কেও প্রয়োগের চেষ্টা চলছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে শহরটির বাসিন্দাদের খাদ্যবর্জ্য আলাদা করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রায় ৩৪ লাখ পরিবার এ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। বাসিন্দাদের নির্দিষ্ট বিনে বা নিরাপদ ঢাকনাযুক্ত পাত্রে খাদ্যবর্জ্য আলাদা করে রাখতে হয়। শহরের বিভিন্ন জায়গায় ৪০০টির বেশি স্মার্ট কম্পোস্টিং বিন স্থাপন করা হয়েছে।

তবে নিয়ম মানানোই নিউ ইয়র্কের বড় চ্যালেঞ্জ। বাসিন্দাদের সচেতন করতে স্যানিটেশন বিভাগ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ৬০ হাজারের বেশি মানুষের সঙ্গে কথা বলেছে। নিয়ম না মানায় ৬৩ হাজারের বেশি পরিবারকে নোটিশও দেয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে শহরটির পরিবারগুলো প্রায় ১৫ লাখ টন জৈব বর্জ্য তৈরি করলেও ব্যবস্থাপনার আওতায় এসেছে মাত্র ১ লাখ ৪০ হাজার টন বা ৯ শতাংশ। এসব বর্জ্যের একাংশ থেকে সার, অন্য অংশ থেকে বায়োগ্যাস তৈরি করা হয়।

নিউ ইয়র্কের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ অ্যাপার্টমেন্টে থাকেন। তাই দক্ষিণ কোরিয়ার মতো স্মার্ট বিন ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন কলাম্বিয়া ক্লাইমেট স্কুলের স্টিভেন কোহেন। তবে তার মতে, বাসিন্দাদের খাদ্যবর্জ্য আলাদা করার বিষয়ে আরো সচেতন করতে হবে। প্রয়োজনে তাদের উৎসাহিত করতে প্রণোদনাও দেয়া যেতে পারে।

সূত্র: বিবিসি


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

;