মোঃ কামরুজ্জামান সরকার বাবু (পোরশা) নওগাঁ প্রতিনিধি : গত ১১/১২ জুন জনৈক রামকৃষ্ণ সরকার, পুলিশ সুপার নওগাঁকে মোবাইল ফোনে জানান যে ১০ জুন সকালে কতিপয় দুষ্কৃতিকারী তার ছেলে রকিকে ডাবের পানির সাথে বিষ খাইয়ে পরিবারের আয়ের একমাত্র অবলম্বন অটোরিকশা ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে আমি (পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম), ওই ব্যক্তিকে নওগাঁ সদর থানায় যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেই.। মামলা রেকর্ড করা হয়। একই সাথে দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানোর জন্য পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে নওগাঁ সদর থানা এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী দল গঠন করা হয়।
এই দল নওগাঁ শহরের আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণ, সপ্তাহ যাবত ডাটা এনালাইসিস, ইত্যাদির মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করে, সেই সাথে বগুড়া, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা অভিযান চালিয়ে দুষ্কৃতিকারী অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের গ্রেফতার করে এবং রামকৃষ্ণের হারানো ধন টমটম অটো রিক্সাটি উদ্ধার করা হয়। অতঃপর গত সপ্তাহে আদালতের নির্দেশে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার অটো রিক্সাটি তাকে ফেরত দেওয়া হয়।
ছিনতাই হওয়া অটো আবার ফেরত পেয়ে রামকৃষ্ণের পুরো পরিবার খুশিতে আত্মহারা। সেই সাথে পুলিশ সুপার এবং জেলা পুলিশের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আজ রামকৃষ্ণ সরকার তার মা, স্ত্রী, সন্তান এবং ফিরে পাওয়া অটো সহ নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এসেছে ফুল নিয়ে পুলিশ সুপারকে ধন্যবাদ, ভালোবাসা এবং কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্য। রামকৃষ্ণ বেশ কয়েক বছর আগে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছিল, তারপর থেকে অসুস্থ, সে উপরে উঠতে পারে না। শরীরে ক্যাথেটার লাগানো, তাই আমাকে ফোন করে অটোতেই বসে ছিল।
কিছুক্ষণ পর আমি নিজেই নেমে আসলাম। এসে তো আমি অনেকটা হতভাগ এবং আবিভূত। ফেরত পাওয়া টমটম অটোরিকশা সহ পুরো পরিবার পুলিশ সুপারকে ভালোবাসায় সিক্ত করল, সেই সাথে নওগাঁ জেলা পুলিশকে ফুলেল শুভেচ্ছা সহ একরাশ ভালোবাসা জানাল। পুলিশ সুপার হিসেবে আমিও তাদেরকে শুভেচ্ছা জানালাম। মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে মনে হল নওগাঁ জেলা পুলিশের দায়িত্ব আরও এক ধাপ বেড়ে গেল। আমি তাদেরকে নওগাঁ জেলা পুলিশের জন্য দোয়া করতে বললাম। তার বৃদ্ধ মা আমার মাথায় হাত রেখে সে যেন সমগ্র নওগাঁ জেলা পুলিশকে আশীর্বাদ করলো। পুলিশ সুপার তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিল এভাবেই নওগাঁ জেলা পুলিশ আগামী দিনে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কাজ করে যাবে।