দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি এবং শান্তি বজায় রাখার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে সার্ক জার্নালিস্ট ফোরাম (SJF)। বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে টেকসই শান্তি গঠনে 'পিস জার্নালিজম' বা শান্তি সাংবাদিকতার গুরুত্ব অপরিসীম। আর এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করেই ফোরামটি তার সাংগঠনিক কার্যক্রমকে বিশ্বমঞ্চে নিয়ে গেছে।
নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক গতিশীলতা
সার্ক জার্নালিস্ট ফোরামের সাংগঠনিক কার্যক্রম বর্তমানে এক অভূতপূর্ব গতিশীলতা লাভ করেছে। এই অগ্রযাত্রার নেপথ্যে রয়েছেন সংগঠনের দুই শীর্ষ নেতা:
রাজু লামা (প্রেসিডেন্ট, সার্ক জার্নালিস্ট ফোরাম)
মোঃ আব্দুর রহমান (সেক্রেটারি জেনারেল, সার্ক জার্নালিস্ট ফোরাম)
তাঁদের দূরদর্শী ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দক্ষিণ এশিয়ার সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ করার পাশাপাশি পিস জার্নালিজমকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার কাজ চলমান রয়েছে। আঞ্চলিক সংকট নিরসন এবং ইতিবাচক সাংবাদিকতার প্রসারে তাঁরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক কনফারেন্স ও শান্তি প্রতিষ্ঠা
দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সার্ক জার্নালিস্ট ফোরাম বিভিন্ন সময়ে সদস্য দেশগুলোতে (যেমন: নেপাল, বাংলাদেশ, ভারতসহ অন্যান্য দেশ) অসংখ্য আন্তর্জাতিক কনফারেন্স ও সেমিনারের আয়োজন করে আসছে।
এই কনফারেন্সগুলোর মূল উদ্দেশ্য:
দ্বন্দ্ব নিরসন: সংঘাত বা যুদ্ধংদেহী সাংবাদিকতার পরিবর্তে কীভাবে শান্তির পক্ষে জনমত গঠন করা যায়, তা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধ করা।
যোগাযোগ বৃদ্ধি: দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সাংবাদিকদের মধ্যে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করা, যাতে ভুল বোঝাবুঝি বা গুজব ছড়ানো রোধ করা যায়।
সংস্কৃতির আদান-প্রদান: সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মুক্ত তথ্য প্রবাহ এবং সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন জোরদার করা।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বৈশ্বিক স্বীকৃতি
সার্ক জার্নালিস্ট ফোরামের কাজের পরিধি এখন আর কেবল দক্ষিণ এশিয়ার গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও এক বিশাল স্বীকৃতি লাভ করেছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চ জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে (UN General Assembly) শান্তি প্রতিষ্ঠা নিয়ে অবদান রাখছে এই ফোরাম। অত্যন্ত গৌরবের বিষয় যে, সার্ক জার্নালিস্ট ফোরামের প্রেসিডেন্ট রাজু লামা পর পর দুইবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেছেন।
জাতিসংঘের অধিবেশনে এই অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় এবং পিস জার্নালিজম প্রসারে সার্ক জার্নালিস্ট ফোরামের ভূমিকা বৈশ্বিকভাবে সমাদৃত ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পরিশেষে সার্ক জার্নালিস্ট ফোরামের এই উদ্যোগ কেবল সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়নই করছে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ার কোটি কোটি মানুষের জন্য একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে ল্যান্ডমার্ক হিসেবে কাজ করছে। রাজু লামা ও মোঃ আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে এই সংগঠনটি আগামী দিনে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আরও বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।