এস আর সোহেল, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের মহেশপুরে জিম্মি করে আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার কাছ থেকে নগদ টাকা আদায় করেছে এক নারী ও তার স্বামিসহ তিন জন। পরবর্তীতে নারী নিজেই বাদি হয়ে ঐ নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করে। গতকাল দুপুরে ঐ মামলায় উপজেলার খালিশপুর বাজার হতে মহেশপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। মহেশপুর থানার চৌকস অফিসার ইনচার্জ মোঃ মেহেদি হাসান বিষয়টি দ্রুত তদন্ত কারে জানতে পারেন উক্ত ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ঐ নারী ও তার স্বামিসহ তিনজন ব্যাক্তি উক্ত আসামিকে জিম্মি করে নগদ এক লক্ষ টাকা আদায় করে ও দুই লক্ষ টাকার একটি চেক নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়। তাৎক্ষণিক মহেশপুর থানা পুলিশ ঐ নারী ও তার স্বামী সহ চার জনকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় স্বামী এবং স্ত্রী মিলে ৬০ হাজার এবং অপর দুই আসামি ২০ হাজার করে ৪০ হাজার মোট এক লক্ষ টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন। ঐ নারী মোছাঃ তানিয়া খাতুন (২৯) মহেশপুর উপজেলার নাটিমা ইউনিয়নের কুরিপোল গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা মোঃ ফিরোজ হোসেন এর স্ত্রী। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় ওই নারী মহেশপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাজ্জাদুল ইসলাম সাজ্জাদকে পারিবারিক কল হ মিটানোর কথা বলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে আসে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে ঘরে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে। পরবর্তীতে উক্ত দুই আসামি ছুটে এসে তাকে আটক করে জোরপূর্বক আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে নগদ এক লক্ষ টাকা ও একটি ২ লক্ষ টাকা চেক নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়। এসময় ঐ নারীর স্বামি বাড়িতে ছিলোনা। কিছুক্ষণ পরে এসে সেও ঐ পরিকল্পনা অনুযায়ী টাকা ভাগাভাগি করে। পরবর্তীতে ব্যাংকে টাকা না থাকায় চেক দিয়ে জিম্মিকারীরা টাকা তুলতে পারেনা। পরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাজাদুল ইসলাম সাজ্জাদ কে টাকার জন্য বিভিন্ন হুমকি ধামকি প্রদান করেন। তারপরও যখন টাকা না পায় কৌশলে ওই নারীকে দিয়ে ধর্ষণ চেষ্টা মামলা দায়ের করে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ওই নারী এর আগেও অপর এক ব্যক্তি কে হানিট্রাপে ফেলে এভাবে টাকা আদায় করে এবং তার অনৈতিক কর্মকান্ডে এলাকাবাসী অথিষ্ট হয়ে উঠেছেন। সে এখন নিজ এলাকা ছেড়ে খালিশপুর বাজারে স্বামীসহ ঘর ভাড়া করে থাকেন। মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মেহেদি হাসা জানান, উপযুক্ত বিষয়টি সঠিক তদন্ত করে অপরাধী যেই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।