মোঃ আলাউদ্দিন, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সরইবাড়ি এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মিথ্যা অপপ্রচারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, রফিক মিয়া নামে এক ব্যক্তি ফেইক আইডি ব্যবহার করে সরইবাড়ি গ্রামের সমাজসেবক ও মসজিদের সভাপতি মোহাম্মদ মাসুক মিয়ার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ মাস আগে মাসুক মিয়ার পরিচিত এক ব্যক্তি নয়নের মাধ্যমে রফিক মিয়া, মজনু মিয়া, আয়ান আহমেদ ও আবুল হোসেন নামে চারজন সৌদি আরবে কাজের জন্য প্রেরিত হন। চারজনের মধ্যে রফিক মিয়া সৌদি আরবে গিয়ে চার মাস কাজ করার পর নিজ ইচ্ছায় পূর্বের কোম্পানির চাকরি ছেড়ে অন্যত্র যোগ দেন। এরপর থেকেই রফিক মিয়া ফেসবুকে ফেইক আইডি খুলে মাসুক মিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার শুরু করেন।
রফিকের করা পোস্টে অভিযোগ করা হয়েছে, মাসুক মিয়া তাদের কাছ থেকে ৬ হাজার রিয়াল দাবি করেছেন এবং গৃহবন্দী করে রেখেছিলেন। তবে এলাকাবাসীসহ সংশ্লিষ্টরা এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
সরইবাড়ি এলাকার বাসিন্দারা জানান, “মাসুক মিয়া একজন সৎ ও সমাজসেবী মানুষ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মসজিদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার আমাদেরকে ক্ষুব্ধ করেছে। এ ধরনের অসত্য তথ্য দিয়ে একজন সম্মানিত মানুষকে হেয় করা হচ্ছে।”
ভুক্তভোগী অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ মাসুক মিয়া বলেন, “যারা বিদেশে গিয়েছেন তারা নয়নের মাধ্যমে গিয়েছেন। টাকা লেনদেনের সময় উভয় পক্ষ আমার দোকানে বসে চুক্তি করেছে, কিন্তু আমি কখনো এসব লেনদেনে জড়িত ছিলাম না। আমাকে শত্রুতা করে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।”
সাবেক স্থানীয় ইউপি সদস্য কালাম মিয়া বলেন, “মাসুক মিয়া একজন ভালো মানুষ। তিনি মসজিদের সভাপতি হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। দোকানে লেনদেন হয়েছে ঠিকই, তবে তাতে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাকে হেয় করার জন্য ষড়যন্ত্র চলছে।”
এ প্রসঙ্গে কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমেনা বেগম বলেন, “ফেসবুকে প্রকাশিত ভিডিও ও অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। মাসুক মিয়া একজন সৎ মানুষ এবং সমাজসেবী। তাকে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।”
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, দ্রুত এ ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।