শিরোনাম
দেশীয় পাঁচ প্রজাতির ছোট মাছে উদ্বেগজনক মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত । সরকারকে ব্যর্থ করতে দেশের বিরুদ্ধে একটি দল চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে : রিজভী দেশের বাজারে ভরিতে ১০ হাজার টাকা সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদের সাথে এইচটি বাংলা অনলাইন পোর্টাল ও আইপি টিভির সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেনের সৌজন্য সাক্ষাৎ। পাটগ্রামে জুলাই অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ১১দলীয় গণ মিছিল ও গণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত পোরশায় গণঅভ্যুত্থান দিবসে শহিদ ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা।  ১১ দলীয় ঐক্য পোরশা উপজেলা শাখার আয়োজনে ৫ আগস্ট জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালন উপলক্ষে নিতপুর কপালের মোড়ে মিছিল সমাবেশ অনুষ্ঠিত।  লালমনিরহাটের পাটগ্রামে ইসলামী আদর্শ বিদ্যানিকেতন উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃক জুলাই অভ্যুত্থান দিবস পালিত নওগাঁ পুলিশ সুপারের সহায়তায় ছিনতাই হওয়া অটো  ফেরত পেয়ে খুশিতে আত্মহারা রামকৃষ্ণের পরিবার । বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অতিরিক্ত বিল আসলে যা করতে বললেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা।
বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২২ অপরাহ্ন

দেশীয় পাঁচ প্রজাতির ছোট মাছে উদ্বেগজনক মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত ।

রিপোটারের নাম / ১ বার পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬

 

এইচটি বাংলা ডেস্ক  : বাংলাদেশের দেশীয় পাঁচ প্রজাতির ছোট মাছে উদ্বেগজনক মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষকেরা। গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু মাছের অন্ত্র বা ফুলকাতেই নয়, মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত মাংসপেশিতেও প্লাস্টিকের অতিক্ষুদ্র কণা পৌঁছে গেছে।

 

গবেষকদের মতে, বর্তমানে এসব মাছ খাওয়ার ফলে তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যঝুঁকির সুস্পষ্ট প্রমাণ নেই। তবে দীর্ঘমেয়াদে মানবস্বাস্থ্য, জলজ বাস্তুতন্ত্র এবং খাদ্যনিরাপত্তার ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে কই মাছে। এরপর রয়েছে বাটা, মেনি (ভেদা/নান্দিনা), গুলশা টেংরা ও পুঁটি।

 

বাকৃবির মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালনায় পরিচালিত গবেষণাটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী Journal of Hazardous Materials Advances এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকদের দাবি, আড়িয়াল বিলের মাছ, পানি ও পলিমাটিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ নিয়ে এটিই প্রথম পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক গবেষণা।

 

গবেষণার প্রধান গবেষক এবং ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান জানান, আড়িয়াল বিলের গাদীঘাট, বসুরোলা ডেঙ্গা, সাগর ডেঙ্গা, বড়াইখালী ও আলমপুর—এই পাঁচটি স্থান থেকে ২০২৪ সালের বর্ষাকাল, ২০২৪-২৫ সালের শীতকাল এবং ২০২৫ সালের শুষ্ক মৌসুমে পানি, পলিমাটি ও মাছের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। মোট ১৫০টি মাছের অন্ত্র, ফুলকা ও মাংসপেশি আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। পরীক্ষার আওতায় ছিল কই, বাটা, মেনি (ভেদা/নান্দিনা), গুলশা টেংরা এবং পুঁটি মাছ।

 

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, তিন মৌসুমেই কই মাছে সর্বোচ্চ মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক জমা হয়েছে। কই মাছের মাংসপেশিতে গড়ে প্রায় একটি করে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। অন্ত্রে গড়ে ১ দশমিক ৭০ থেকে ১ দশমিক ৯০টি এবং ফুলকায় ১ দশমিক ৩০ থেকে ১ দশমিক ৪০টি কণা শনাক্ত হয়েছে। এর পরেই রয়েছে বাটা মাছ। এরপর মেনি ও গুলশা টেংরা। সবচেয়ে কম মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে পুঁটি মাছে।

 

গবেষকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কই মাছ সর্বভুক হওয়ায় তলদেশের পলি, প্ল্যাঙ্কটন এবং অন্যান্য খাদ্যের সঙ্গে থাকা প্লাস্টিক কণাও সহজেই গ্রহণ করে। এছাড়া ৩০০ মাইক্রোমিটারের চেয়ে ছোট কণাগুলো মাছের পরিপাকতন্ত্রের দেয়াল অতিক্রম করে মাংসপেশিতে পৌঁছাতে সক্ষম।

 

তৃণভোজী বাটা মাছের অন্ত্রে বর্ষা মৌসুমে গড়ে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৫০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। মাংসপেশিতে তিন মৌসুমেই এর উপস্থিতি প্রায় একই ছিল, যা শূন্য দশমিক ৮০ থেকে শূন্য দশমিক ৯০টির মধ্যে।

 

মেনি মাছের ক্ষেত্রে শীত ও শুষ্ক মৌসুমে অন্ত্রে তুলনামূলক বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। মাংসপেশিতে এর পরিমাণ ছিল শূন্য দশমিক ৬০ থেকে শূন্য দশমিক ৭০টির মধ্যে। একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে গুলশা টেংরা মাছেও। এ মাছের অন্ত্রে শীত মৌসুমে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৩০টি এবং মাংসপেশিতে শূন্য দশমিক ৫০ থেকে শূন্য দশমিক ৮০টি কণা শনাক্ত হয়েছে।

 

অন্যদিকে আকারে ছোট সর্বভুক পুঁটি মাছের দেহে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে কম। এর মাংসপেশিতে মাত্র শূন্য দশমিক ৫০ থেকে শূন্য দশমিক ৫১টি কণা পাওয়া গেছে।

 

এর আগে বাংলাদেশে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, চলনবিল, হাওরাঞ্চল, সুন্দরবনের উপকূলীয় এলাকা এবং বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন মাছ ও চিংড়িতেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। একই গবেষক দল চলনবিল ও হাওরের মাছ নিয়েও গবেষণা করেছে। সেসব গবেষণায় তলদেশে বসবাসকারী মাছের শরীরে তুলনামূলক বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেলেও আড়িয়াল বিলের মাছ, পানি ও পলিমাটি নিয়ে এটিই প্রথম পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক গবেষণা।

 

 


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ