শিরোনাম
পোরশায় ৩২ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবার পেল কোয়ারেন্টানে মারা যাওয়া ছাগল।  পাটগ্রামে শিক্ষকের দাবীতে দ্বিতীয় দিনের মত চলছে দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্র -ছাত্রীদের ক্লাস বর্জন আন্দোলন। পোরশায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগ পরীক্ষা পরিদর্শনে ইউএনও রাকিবুল ইসলাম।  শিক্ষক সংকটের কারণে দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র -ছাত্রীদের ক্লাস বর্জন নওগাঁ পুলিশ সুপারের নির্দেশে পোরশায় বিপুল পরিমাণ চোলাই মদ তৈরির উপকরণ জব্দ ও ধ্বংস, ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা।  লালমনিরহাটেট পাটগ্রামে নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিনিয়ত মানুষ ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। পোরশায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত পোরশায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল ও শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ বিএমএসএস’র কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৯ অপরাহ্ন

পাটগ্রামে শিক্ষকের দাবীতে দ্বিতীয় দিনের মত চলছে দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্র -ছাত্রীদের ক্লাস বর্জন আন্দোলন।

রিপোটারের নাম / ২০ বার পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

এফ আই রানা , লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি :  দ্বিতীয় দিনের মত ক্লাস বর্জনো করে শিক্ষকের দাবীতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে লালমনিরহাট জেলার আলোচিত দহগ্রাম ইউনিয়নের “দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা। শুধু আশ্বাস নয় ; প্রয়োজনীয় শিক্ষক চায় তারা। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, তাদের দাবী পূরণ না হলে তারা চলমান ক্লাস বর্জন কর্মসুচী অব্যাহত রাখতে বাধ্য হবে। জানা গেছে দীর্ঘদিন যাবত শিক্ষক সংকটের দরুন দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। মূল প্যাটার্ণভুক্ত মাত্র ১জন শিক্ষকেই সামলাতে হচ্ছে গোটা বিদ্যালয়। ফলে শিক্ষাকার্যক্রম ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে । গত মঙ্গলবার (২৮জুলাই) শিক্ষক সংকটের সমাধানের দাবীতে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলনে নামে ছাত্র -ছাত্রীরা। এসময় তারা ক্লাস বর্জন করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে সমাবেত হয়ে অবস্থান নেয় এবং নানা রকমের দাবী সংবলিত শ্লোগান দিতে থাকে।

 

তাদের প্রদর্শিত প্ল্যাকার্ডে দেখা যায় ” One school one teacher ” ভবন আছে বই আছে শিক্ষক নেই কেন? ” ভবন আছে, বই আছে, শিক্ষার্থী আছে, বেঞ্চ আছে শিক্ষক কেন নেই ক্লাস? ” এমন সব শ্লোগান। গত বুধবার (২৯ জুলাই) আষাঢ়ী পূর্ণিমা উপলক্ষে সরকারী ছুটি থাকায় শিক্ষার্থীরা আন্দোলন একদিন বিরতি দিয়ে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) থেকে দ্বিতীয় দিনের মত আবারও ক্লাশ বর্জন করে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দীর্ঘদিন যাবত দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট চলছে। প্রায় ৭০০জন ছাত্র ছাত্রীর পাঠদানের জন্য একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও ২জন কর্মচারী নিয়ে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছে। গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়ের শিক্ষকের পদ শুণ্য রয়েছে বলে জানা যায়। জানা গেছে নিয়োগকৃত অনেক শিক্ষক এখানে পদায়ন হয়নি দীর্ঘদিনেও। কখনো কখনো ২/১ টি পদের শিক্ষক এলেও বেশি দিন এখানে থাকতে চান না। কয়েক দিন যেতে না যেতেই বদলী হয়ে অন্যত্র চলে যান। ফলে একজন মাত্র মূল পদের শিক্ষক ও খণ্ডকালীন হাতে গোনা কয়েকজন শিক্ষক দিয়ে কোন মতে চলছে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম।

 

২০১৩ সালের ৬ অক্টোবর সরকার এই বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করে এবং পরবর্তীতে বিদ্যালয়টি কলেজিয়েট হিসেবে উন্নীত করা হয়। বিদ্যালয়টি লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলাধীন দহগ্রাম ইউনিয়নের একমাত্র সরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যা স্থানীয় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রধান ভরসা।কিন্ত নানাবিধ অব্যবস্থাপনা, প্রয়োজনীয় শিক্ষক সংকটের কারণে অবকাঠামোগত অনেক সুযোগ সুবিধা বিদ্যমান থাকলেও এই বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। চরম শিক্ষক সংকটে ক্ষুব্ধ ও হতাশ শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা। এ বিযয়ে সচেতন অভিভাবক ও স্থানীয় অধিবাসীরা শিক্ষা মন্ত্রনালয় সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও (অধুনালু্প্ত)দহগ্রাম সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেজানুর রহমান প্রধান রেজা বলেন- পৃথিবীর সর্বত্র এখন শিক্ষার ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে অথচ দহগ্রামের মত একটি আলোচিত এবং অবহেলিত জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ক্ষেত্রে কেন এই অবস্থা তা বোধগম্য নয়। তিনি বলেন, দহগ্রাম হাইস্কুল একটি সরকারি স্কুল যেখানে বিজ্ঞান ও মানবিক সহ দুটি বিভাগ চালু রয়েছে সেখানে কিভাবে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান সম্ভব। এ বিষয়ে তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের আশু পদক্ষেপ কামনা করেন। শিক্ষক সংকটের সুষ্ঠু সমাধান করে দহগ্রামের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান রাখার সুযোগদানের আহবান জানান তিনি।

দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো:ফরিদুল ইসলাম সরকার বলেন, শিক্ষক সংকট সমাধানের জন্য আমি উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে আবেদন করেছি এবং কথা বলেছি আশা করি অতি শীঘ্রই এ সংকটের সমাধান হবে। ”

 

 


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ