শিরোনাম
চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে ৩নং কৈয়ারবিল ইউনিয়নবাসীর দোয়া চাইলেন দিদারুল ইসলাম এরফান পোরশায় মাদকবিরোধী অভিযানে স্থানীয় জনগনের সহায়তায় ০৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ও ৩২ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ পোরশায় উৎসব মুখর পরিবেশে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত মোস্তফা হাকিম ব্লাড ব্যাংকের নতুন সেচ্ছাসেবী সদস্যদের নিয়ে ওরিয়েন্টেশন ও মোটিভেশনাল সেমিনার অনুষ্ঠিত সিলেটে সুজন মিয়া গ্রেপ্তার, বালুমহাল নিয়ে আগেও সংবাদ প্রকাশ সাংবাদিক জয়নালকে সাইবার সুরাক্ষা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রশ্নের মুখে সমরকন্দী ইসলামীক সাংস্কৃতিক ফোরাম বাংলাদেশের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত সার্ক এডুকেশন কনক্লেভ অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দিতে ভারত যাচ্ছেন এসজেএফ সেক্রেটারি জেনারেল মোঃ আবদুর রহমান।। দুর্গাপূজায় যানজট নিরসনে ঘাম ঝরাচ্ছেন টিআই-সার্জেন্টসহ ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা বিজিবি কর্তৃক মাদক দ্রব্য হেরোইন উদ্ধার। 
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৫৫ অপরাহ্ন

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধর-শ্বাসরোধের অভিযোগ, স্বামী গ্রেপ্তার

রিপোটারের নাম / ১৭৬ বার পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধর, শ্বাসরোধ ও গাড়িতে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় লাকী আক্তার মনিকা (২৫) নামে এক নারী সীতাকুণ্ড থানায় মামলা করেছেন। মামলায় তাঁর স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদ, ননদের স্বামী ও অজ্ঞাতনামা আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার ১ নম্বর আসামি স্বামী মো. শহীদুল আলম আবীরকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর পারিবারিকভাবে মো. শহীদুল আলম আবীরের সঙ্গে লাকী আক্তার মনিকার বিয়ে হয়। বিয়েতে ৫০ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়। বাদীর অভিযোগ, বিয়ের সময় তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী দেওয়া হয়। পরে ব্যবসার কথা বলে বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য স্বামী তাঁকে চাপ দিতে থাকেন।

এজাহারে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৭ আগস্ট ব্যবসায়িক কাজে সহযোগিতার কথা বলে স্বামীকে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে দুই লাখ টাকা এবং নগদ আরও ২৩ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এরপরও অতিরিক্ত ১৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। ওই টাকা এনে দেওয়ার জন্য স্বামীসহ আসামিরা তাঁকে চাপ দিতে থাকেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বাদীর অভিযোগ, তিনি বাবার কাছ থেকে ওই টাকা এনে দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্বামী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে গালিগালাজ ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। একপর্যায়ে গত ২৬ জুলাই দুপুরে স্বামী, ননদ ও ননদের স্বামী তাঁকে মারধর করেন। এ সময় চুলের মুঠি ধরে টানাহেঁচড়া এবং গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে বিষয়টি বাবাকে জানালে তিনি এসে লাকীকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ২৬ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত তিনি চিকিৎসা নেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, ওই ঘটনার পর মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হলে আসামিপক্ষের কয়েকজন বাদীর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না বলে আশ্বাস দেন। পরে লাকীকে বাবার বাড়িতে থাকতে বলা হয়। কিছুদিন পর স্বামী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ করে তাঁকে আবার সংসারে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা জানান।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ সেপ্টেম্বর স্বামী তাঁর দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বাদীর বাবার বাড়িতে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে ব্যবসার জন্য টাকা প্রয়োজন বলে তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে তাঁকে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পথে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বানুর বাজার এলাকার একটি মাদ্রাসার সামনে গাড়ি থামানো হয়।

বাদীর অভিযোগ, সেখানে স্বামী তাঁকে গালিগালাজ ও মারধর করেন। একপর্যায়ে গাড়ির ভেতরে শুইয়ে পেটে লাথি মারা হয়। পরে ওড়না দিয়ে তাঁর দুই হাত এবং গাড়িতে থাকা রশি দিয়ে দুই পা বেঁধে ফেলা হয়। তিনি চিৎকার করার চেষ্টা করলে মুখ চেপে ধরা এবং গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ সময় গাড়িতে থাকা স্বামীর এক বন্ধু তাঁকে বেশি না মারার জন্য বলেন বলে বাদী অভিযোগ করেন। পরে তাঁকে গাড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে রেখে স্বামী গাড়ি নিয়ে চট্টগ্রাম শহরের দিকে চলে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে একটি সিএনজি অটোরিকশায় করে বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান লাকী। এরপর তাঁকে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় লাকী আক্তার মনিকা বাদী হয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর সীতাকুণ্ড থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(ক), ১১(খ) ও ৩০ ধারায় মামলা করেন। মামলাটি ১০ নম্বর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন—লাকীর স্বামী মো. শহীদুল আলম আবীর, শ্বশুর মো. জানে আলম, শাশুড়ি হোসনে আরা বেগম, ননদ সায়মা আক্তার, ননদের স্বামী মো. রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী প্রকাশ তুমুল এবং অজ্ঞাতনামা আরও একজন।

মামলার বাদী লাকী আক্তার মনিকা বলেন, যৌতুকের টাকা এনে দিতে না পারায় তাঁর ওপর বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। একপর্যায়ে গলা টিপে ধরা ও বালিশ দিয়ে মুখ চেপে ধরেও নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি ও লাকীর শ্বশুর মো. জানে আলমের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সীতাকুণ্ড থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইদ্রিস বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামিকে অগ্রাধিকার দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

;