শিরোনাম
যারা জশনে জুলুসের বিরোধিতা করেন, তাদের মানসিক চিকিৎসা করানো উচিত : মোছাইব উদ্দিন বখতিয়ার ভুটানের রাজাকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ৫০০ টাকা মজুরিসহ ৪ দফা দাবিতে চান্দপুর চা বাগানে মানববন্ধন পোরশায় ডাসকো ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ১০ কন্যা শিশুকে ৫০০০ হাজার টাকা শিক্ষা বৃত্তি প্রদান। অ্যাডমিরাল পদে পদোন্নতি পেলেন নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিসবাহ নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি) কর্তৃক চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ফেন্সিডিল আটক।    কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল পাটগ্রাম ছাত্রশিবির ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পোরশাকে মাদকমুক্ত করতে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা চাইলেন ওসি জিয়াউর রহমান। মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে ইউএনও মাহমুদুল হাসান, রোগীদের সেবার মান ও হাসপাতালের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ ।
বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:০৭ পূর্বাহ্ন

আজ রাজা রামমোহন রায়ের ২৫৩তম জন্মবার্ষিকী

রিপোটারের নাম / ৪৫০ বার পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২২ মে, ২০২৫

 

এইচটি বাংলা ডেস্ক : যুগপথিক রাজা রামমোহন রায়-এর ২৫৩তম জন্মবার্ষিকী আজ ২২ মে। রাজা রামমোহন রায়ের জন্মদিন উপলক্ষে রাজধানীর পাটুয়াটুলীস্থ ২-৩-৪, লয়াল স্ট্রীটে বাংলাদেশ ব্রাহ্মসমাজ কর্তৃক আয়োজিত উপাসনা, শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, প্রার্থনা, ব্রহ্মসংগীত ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত অনুষ্ঠানে সকলকে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করেছেন বাংলাদেশ ব্রাহ্মসমাজ।

১৭৭২ সালের ২২ মে (আজকের দিনে) ব্রিটিশ ভারতের রাধানগরে জন্মগ্রহণ করেন রামমোহন রায়।

তিনি বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ। তিনি প্রথম ভারতীয় যিনি ধর্মীয়-সামাজিক পুনর্গঠন আন্দোলন ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি একজন বাঙালি দার্শনিক। তৎকালীন রাজনীতি, জনপ্রশাসন, ধর্ম এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে তিনি উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখতে পেরেছিলেন।

তিনি সবচেয়ে বেশি বিখ্যাত হয়েছেন সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত করার প্রচেষ্টার জন্য। ভারতে দীর্ঘকাল যাবৎ বৈষ্ণব বিধবা নারীদের স্বামীর চিতায় সহমরণ যেতে বা আত্মাহুতি দিতে বাধ্য করা হত। এই ঘৃণ্য প্রথার বিরুদ্ধে রামমোহন গর্জে উঠলেন, শুরু করলেন আন্দোলন, বিভিন্ন পুস্তক রচনা করে তিনি প্রমাণ করলেন সতীদাহ বা সহমরণ প্রথা শাস্ত্র বিরোধী। অবশেষে সমস্ত বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে ১৮২১ খ্রিস্টাব্দে সতীদাহ নিরোধ আইন পাস করাতে তিনি সক্ষম হন।

ফলে সতীদাহ প্রথার হয় অবসান। তিনি বহুবিবাহ প্রথার বিরুদ্ধেও আন্দোলন করেন।

রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে ইংল্যান্ড যাত্রার আগে দ্বারকানাথ ঠাকুরের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ব্রাহ্মসমাজ স্থাপন করেন। পরবর্তীকালে এই ব্রাহ্মসমাজ এক সামাজিক ও ধর্মীয় আন্দোলন এবং বাংলার পুনর্জাগরণের পুরোধা হিসাবে কাজ করে। বেদান্ত-উপনিষগুলি বের করবার সময়ই তিনি সতীদাহ অশাস্ত্রীয় এবং নীতিবিগর্হিত প্রমাণ করে পুস্তিকা লিখলেন ‘প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ’।

প্রতিবাদে পুস্তিকা বের হল ‘বিধায়ক নিষেধকের সম্বাদ’। তার প্রতিবাদে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুস্তিকা বের হয়। এই বছরেই ডিসেম্বর মাসে আইন করে সহমরণ-রীতি নিষিদ্ধ করা হয়। তবুও গোঁড়ারা চেষ্টা করতে লাগল যাতে পার্লামেন্টে বিষয়টি পুনর্বিবেচিত হয়। এই চেষ্টায় বাধা দেয়ার জন্য রামমোহন বিলেত যেতে প্রস্তুত হলেন।

এব্যাপারে তাকে আর্থিক সহায়তা দান করেন প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর। মোঘল সম্রাট ২য় আকবর তার দাবি ব্রিটিশ সরকারের কাছে পেশ করার জন্য ১৮৩০ সালে রামমোহনকে বিলেত পাঠান, তিনি রামমোহনকে রাজা উপাধি দেন। ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ নভেম্বর তিনি কলকাতা থেকে বিলেত যাত্রা করেন। দিল্লির বাদশাহ দ্বিতীয় আকবর তাকে ‘রাজা’ উপাধি দিয়ে ১৮৩২ খ্রিষ্টাব্দের শেষের দিকে কিছুদিনের জন্য তিনি ফ্রান্সেও গিয়েছিলেন।

তিনি ছিলেন আধুনিক ভারতের সমাজ সংস্কারের অন্যতম পথিকৃৎ। রামমোহন রায় একেশ্বরবাদে বিশ্বাস করতেন। তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মূর্তি পূজার বিরোধী ছিলেন। এই বিশ্বাস থেকে তিনি ব্রাহ্মসমাজ ও ব্রাহ্মধর্ম প্রতিষ্ঠা করেন। রামমোহন রায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আচরণীয় ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান মানতেন না ও তা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতেন।

তিনি মনে করতেন সকল ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান কুসংস্কার ছাড়া কিছু নয়। রামমোহন রায় বেদের বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করে তার বক্তব্য প্রমাণ করেন। ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ নভেম্বর তিনি কলকাতা থেকে বিলেত যাত্রা করেন। ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দের ৮ এপ্রিল রামমোহন লিভারপুলে পৌঁছলেন। ১৮৩২ খ্রিষ্টাব্দের শেষের দিকে কিছুদিনের জন্য তিনি ফ্রান্সেও গিয়েছিলেন। সেখানে ফরাসি সম্রাট লুই ফিলিপ কর্তৃক তিনি সংবর্ধিত হন।

সেখান থেকে ফিরে এসে তিনি ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে বসবাস করতে থাকেন। ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে মেনিনজাইটিস রোগে আক্রান্ত হন এবং প্রায় ৮ দিন জ্বরে ভুগে ২৭ সেপ্টেম্বরে মৃত্যবরণ করেন। তার মৃত্যুর দশ বছর পর দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘আনসার ডেল’ নামক স্থানে তার সমাধিস্থ করে একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করে দেন। ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দে মধ্য ব্রিস্টলে তার একটি মূর্তি স্থাপন করা হয়।


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ