শিরোনাম
দ্রুততম সময়ে ঢাকার সঙ্গে সিলেটের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের কাজ শুরু করা হবে : প্রধানমন্ত্রী ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংঘাত ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে : ডোনাল্ড ট্রাম্প  হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুর মাঝে এমআরটি ক্লাবের খেলনা সামগ্রী বিতরণ। পোরশায় উৎসব মুখর পরিবেশে মহান মে দিবস উদযাপন উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।  পাটগ্রামে ইহসান ইয়ুথ কর্তৃক কুরআন মাজিদ বিতরন আজ ঐতিহাসিক  মহান ‘মে দিবস’ চলতি বছরই ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে ‘সার্ক জার্নালিস্ট ফোরাম’ শীর্ষ সম্মেলন জোয়ারা খানখানাবাদ নূতন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান সম্পন্ন চন্দনাইশে মখলেছুর রহমান চৌধুরী-আলতাজ খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পুরস্কার বিতরণ ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন

তাকওয়া: আত্মগঠনের মূল চাবিকাঠি ও সমাজকল্যাণের ভিত্তিপ্রস্তর 

রিপোটারের নাম / ৪৩৪ বার পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৫

 

ইসলামী চিন্তাধারার মৌলিক ভিত্তিসমূহের মধ্যে “তাকওয়া” এমন একটি অনন্য গুণ, যা ব্যক্তির আত্মা, চিন্তা, আচরণ, ও সামাজিক অবস্থানকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর স্থাপন করে। তাকওয়া শুধু একটি তাত্ত্বিক বা ধর্মীয় পরিভাষা নয়—এটি এমন এক বাস্তবধর্মী জীবনদর্শন, যা মানুষকে আল্লাহভীতি, আত্মসংযম, নৈতিকতা ও পূর্ণ মানবতা অর্জনের পথে চালিত করে। কুরআন-হাদীসের আলোকে তাকওয়ার গুরুত্ব অনুধাবন করলেই বোঝা যায়, একজন মানুষের চরিত্র, নেতৃত্ব, আচার-আচরণ, এমনকি তার ভবিষ্যৎ পরিণতি—সবকিছু নির্ধারিত হয় তাকওয়ার মাত্রা অনুযায়ী।

 

 

তাকওয়ার শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ:

 

‘তাকওয়া’ শব্দটি আরবি “وَقَىٰ – ইয়াকী” ধাতু থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ—রক্ষা করা, নিরাপদ রাখা। ইসলামী পরিভাষায় তাকওয়া বলতে বোঝানো হয়—আল্লাহর ভয়, সচেতনতা ও তাঁর বিধিনিষেধের প্রতি সম্পূর্ণ আনুগত্যের মাধ্যমে নিজেকে পাপ ও গোনাহ থেকে বাঁচিয়ে রাখা।

 

কুরআনে তাকওয়ার গুরুত্ব:

 

আল্লাহ তাআলা অসংখ্য আয়াতে তাকওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। যেমন:

 

> “হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদের একটি আত্মা থেকে সৃষ্টি করেছেন।” (সূরা নিসা: ১)

 

> “নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাবান সে ব্যক্তি, যে সর্বাধিক তাকওয়াবান।” (সূরা হুজুরাত: ১৩)

 

 

এই আয়াতগুলোর মর্মার্থ হলো—মানবজাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব বা সম্মানের মূল ভিত্তি বংশ, ধনসম্পদ, জ্ঞান বা প্রতিপত্তি নয়; বরং তাকওয়া।

 

তাকওয়া কাদের জন্য অপরিহার্য?

 

তাকওয়া কেবল আলেম-উলামা, ইমাম, বা খতিবদের গুণ নয়; এটি প্রত্যেক মুসলমান—ছোট-বড়, নারী-পুরুষ, নেতা-শ্রমিক, ধনী-গরিব—সব মানুষের জন্য অপরিহার্য। কুরআনের ভাষায়, কুরআনের উপদেশ কেবল তাকওয়াবানদের উপকারে আসে:

 

> “এই কিতাব—এতে কোন সন্দেহ নেই—এটি মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত।” (সূরা বাকারা: ২)

 

হাদীসে তাকওয়ার গুরুত্ব:

 

রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকওয়াকে অন্তরের সাথে সম্পর্কযুক্ত করে বলেছেন:

 

> “তাকওয়া এখানে”—এবং তিনি তাঁর বুকে ইশারা করলেন। (মুসলিম: ২৫৬৪)

 

অর্থাৎ তাকওয়া বাহ্যিক আচার-আচরণে নয় বরং অন্তরের গভীর অনুভূতি, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে কর্মে, কথায় ও চরিত্রে।

 

তাকওয়ার উপকারিতা:

 

১. আল্লাহর সাহায্য লাভ:

“যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ করে দেন।” (সূরা তালাক: ২)

 

২. গুনাহ মাফ ও রিজিক বৃদ্ধি:

তাকওয়ার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা মানুষের পাপসমূহ মাফ করেন এবং রিজিকের পথ সহজ করে দেন (তালাক: ৪-৫)।

 

৩. আত্মশুদ্ধি ও চারিত্রিক উৎকর্ষ:

তাকওয়া মানুষকে অহংকার, হিংসা, লোভ, কু-চিন্তা ইত্যাদি আত্মিক ব্যাধি থেকে মুক্ত করে।

 

৪. সমাজে শান্তি ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা:

একটি তাকওয়াভিত্তিক সমাজে কেউ অন্যের হক নষ্ট করে না, প্রতারণা করে না, অন্যায়-অবিচার করে না।

 

তাকওয়া অর্জনের উপায়:

 

১. আল্লাহর পরিচয় ও গুণাবলি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন:

আল্লাহকে যত বেশি চেনা যায়, তত বেশি তাঁর ভয় অন্তরে জন্মায়।

 

২. নিয়মিত ইবাদত ও আত্মসমালোচনার অভ্যাস:

নামাজ, রোজা, কুরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা, সৎ সঙ্গ, অন্তর্দৃষ্টি—এসব তাকওয়া বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

 

৩. পাপ থেকে দূরে থাকা ও তওবার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি:

আত্মশুদ্ধির জন্য নিয়মিত তওবা ও ইস্তিগফার করতে হবে।

 

৪. দুনিয়ার প্রতি মোহ হ্রাস করে আখিরাতমুখী মনোভাব:

যারা আখিরাতকে সামনে রেখে জীবন পরিচালনা করে, তাদের মধ্যেই সত্যিকারের তাকওয়া বিকশিত হয়।

 

সর্বোপরি: তাকওয়া এমন একটি বৈশিষ্ট্য, যা ব্যক্তি ও সমাজকে সুদৃঢ় নৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করায়। বর্তমান সমাজে যে অনৈতিকতা, দুর্নীতি, স্বার্থপরতা ও আত্মিক অবক্ষয় দেখা যাচ্ছে, তার প্রতিকারে তাকওয়ার চর্চা একমাত্র কার্যকর উপায়। ব্যক্তি যদি নিজে তাকওয়াবান হয়, তবে তার পরিবার হবে শান্তিময়; পরিবার থেকে সমাজ, সমাজ থেকে রাষ্ট্র—সবই উন্নত ও কল্যাণময় হতে পারে।

 

তাই আজকের প্রেক্ষাপটে তাকওয়া কেবল ধর্মীয় দায়িত্ব নয়, বরং এটি একটি নৈতিক বিপ্লবের নাম—যা প্রতিটি মানুষের, প্রতিটি সমাজের ও সমগ্র মানবতার জন্য এক অপরিহার্য চেতনা।

 

 

আব্দুল মাবুদ মোহাম্মদ ইউসুফ, মুতায়াল্লীম: দারুননাজাত সিদ্দিকীয়া কামিল মাদরাসা, ঢাকা।

 

 


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ