শিরোনাম
পোরশার ভোট কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট পেপারসহ ভোট গ্রহণের সরঞ্জাম বিতরণ।  নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর লড়াইয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে মাওলানা এহসানুল হক লালমনিরহাট-১ আসনে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করলেন জামায়াত প্রার্থী আমরা একটি অত্যন্ত ভালো, অংশগ্রহণমূলক, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা করছি : ইইউ পর্যবেক্ষক প্রধান  এম্প্যায়ার হাইটস কমার্শিয়াল সেন্টারের মালিক পক্ষের হাতে হয়রানি ও জিম্মি থেকে বাঁচতে সংবাদ সম্মেলন ছাতকে হাবিব উল্লাহ হাফিজিয়া মাদ্রাসার ২৫তম বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ও পাগড়ি বিতরণ অনুষ্টিত মহেশপুরে পিতার উন্নয়ন মূলক অসমাপ্ত কাজ সম্পূর্ণ ও সুশাসনের অঙ্গীকারে রনির নির্বাচনী জনসভা পোরশা থানা এলাকায় মাইক্রোবাসে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় এক ডাকাত  গ্রেফতার  পোরশায় ভারতীয় ট্যাপেন্টাডাল ট্যাবলেট ও গাজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক
বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:০৫ অপরাহ্ন

নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল

রিপোটারের নাম / ১৯ বার পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

 

এইচটি বাংলা ডেস্ক : বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। এরই মধ্যে সরকার কর্তৃক সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর ভোট দিয়ে ঢাকা থেকে গ্রামের উদ্দেশে ছুটছে তরুণ ভোটারসহ সর্বস্তরের মানুষ।

 

বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। এরই মধ্যে সরকার কর্তৃক সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর ভোট দিয়ে ঢাকা থেকে গ্রামের উদ্দেশে ছুটছে তরুণ ভোটারসহ সর্বস্তরের মানুষ।১৬ বছর পর এবারের নির্বাচন যেমন উৎসবমুখর হবে তেমনি নির্বাচনের মাঠে নাশকতা-সহিংসতাসহ রক্তক্ষয়ী হওয়ারও আশঙ্কা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই মধ্যে আট বিভাগের ৪৫টি জেলায় তিন হাজার ১১৫টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে গোয়েন্দারা। ওইসব কেন্দ্রে এবং কেন্দ্রের বাইরে ঝুঁকি মোকাবেলায় নিরাপত্তার জন্য আগে থেকে টহল ও মহড়া শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন স্তরের বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৮ বিভাগের ৪৫টি জেলায় ৩ হাজার ১১৫টি কেন্দ্র

নির্বাচনী নিরাপত্তায় ড্রোন হেলিকপ্টার, স্ট্রাইকিং ফোর্স আকাশভিত্তিক প্রস্তুতি

বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। এরই মধ্যে সরকার কর্তৃক সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর ভোট দিয়ে ঢাকা থেকে গ্রামের উদ্দেশে ছুটছে তরুণ ভোটারসহ সর্বস্তরের মানুষ।

 

১৬ বছর পর এবারের নির্বাচন যেমন উৎসবমুখর হবে তেমনি নির্বাচনের মাঠে নাশকতা-সহিংসতাসহ রক্তক্ষয়ী হওয়ারও আশঙ্কা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই মধ্যে আট বিভাগের ৪৫টি জেলায় তিন হাজার ১১৫টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে গোয়েন্দারা। ওইসব কেন্দ্রে এবং কেন্দ্রের বাইরে ঝুঁকি মোকাবেলায় নিরাপত্তার জন্য আগে থেকে টহল ও মহড়া শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন স্তরের বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সশস্ত্রবাহিনীসহ ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব ইউনিট নির্বাচনের মাঠে নিরাপত্তা মহড়া, টহল ও চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রমে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

 

এ দিকে নির্বাচনের দিন সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা স্থলবন্দর দিয়ে দেশ থেকে যেতে পারবে না কেউ। দেশের সব স্থলবন্দরের বহির্গমন ইমিগ্রেশন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক নোটিশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সূত্র জানায়, প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপির সমন্বয়ে একটি নির্দিষ্ট টিম সার্বক্ষণিক মোতায়েন থাকবে। পোস্টাল ব্যালটের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সিসি ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। কেন্দ্রের বাইরে টহলরত দল হিসেবে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশ কাজ করবে। কেন্দ্রগুলোকে ‘সাধারণ’ ও ‘গুরুত্বপূর্ণ’ (ঝুঁকিপূর্ণ) হিসেবে ভাগ করে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

 

ঢাকা মহানগরীর অধিকাংশ কেন্দ্রকে এবার ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। নির্বাচনের আগে ও পরে নাশকতা রোধে ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এনআইডি সার্ভার ও নির্বাচনী ডাটা কমিউনিকেশন নেটওয়ার্কের নিরাপত্তায় সাইবার সুরক্ষা এবং মাল্টি-পার্টি কম্পিউটেশন (এমপিসি) ক্রিপ্টোগ্রাফিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।

 

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা : আট বিভাগের ৪৫টি জেলায় তিন হাজার ১১৫টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। সর্বশেষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রদত্ত এ তালিকা অনুযায়ী রংপুর বিভাগে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ২৪৫টি। এর মধ্যে পঞ্চগড়-১ আসনে ১৪টি, ঠাকুরগাঁও-১ ও ৩ আসনে ৯৫টি, লালমনিরহাট-১ আসনে ৪০টি, রংপুর-৩ ও ৪ আসনে ৬৪টি এবং গাইবান্ধা-৫ আসনে ৩২টি। রাজশাহী বিভাগে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ৩২৬টি। এর মধ্যে বগুড়া-২, ৪ ও ৫ আসনে ৯৮টি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে ২৫টি, রাজশাহী-১ ও ২ আসনে ৭১টি, নাটোর-১ আসনে ১৩টি, সিরাজগঞ্জ-১, ২ ও ৪ আসনে ৯৯টি এবং পাবনা-১ ও ৩ আসনে ২০টি। খুলনা বিভাগে ৪০১টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের মধ্যে কুষ্টিয়া-১ ও ৩ আসনে ৯৪টি, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ১৬টি, ঝিনাইদহ-৩ ও ৪ আসনে ২৮টি, যশোর-২ ও ৫ আসনে ৩১টি, খুলনা ২, ৩ ও ৪ আসনে ১২৮টি, সাতক্ষীরা-১ ও ৫ আসনে ৪৫টি এবং বাগেরহাট-১ আসনে ৫৯টি।

 

বরিশাল বিভাগে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৪৯০টি। এর মধ্যে বরগুনা-২ আসনে ১৪টি, ঝালকাঠি-১ আসনে ১৮টি, পটুয়াখালী-২ ও ৩ আসনে ১০১টি, ভোলা-১, ২, ৩ ও ৪ আসনে ১৪৯টি, বরিশাল-১, ৩ ও ৫ আসনে ১৩৩টি এবং পিরোজপুর-২ ও ৩ আসনে ৭৫টি।

 

ঢাকা বিভাগে ৮১৮টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের মধ্যে টাঙ্গাইল-১, ৪ ও ৮ আসনে ৪৭টি, কিশোরগঞ্জ-৪ ও ৫ আসনে ৭৮টি, মানিকগঞ্জ-১ আসনে ৩৪টি, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে ১৭টি, ঢাকা-২, ৩, ৪, ৭, ৮, ১০, ১২ ও ১৫ আসনে ৩৭০টি, নারায়ণগঞ্জ-২, ৩ ও ৪ আসনে ১১০টি, ফরিদপুর-৪ আসনে ১৮টি, শরীয়তপুর ১ ও ২ আসনে ৯২টি এবং মাদারীপুর-৩ আসনে ৫২টি।

 

ময়মনসিংহ বিভাগে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ১৭৪টি। এর মধ্যে শেরপুর-৩ আসনে ২৬টি, ময়মনসিংহ-১, ২, ৯, ১০ ও ১১ আসনে ১০৭টি, নেত্রকোনা-৩ আসনে ৩২টি এবং জামালপুর-৪ আসনে ৯টি। সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ-২ আসনে ১৩টি ও মৌলভীবাজার-৩ আসনে ৫০টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র।

 

চট্টগ্রাম বিভাগে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৫৯৮টির মধ্যে কুমিল্লা-৪, ৯ ও ১১ আসনে ৭৮টি, চাঁদপুর-৪ আসনে ৩৮টি, নোয়াখালী-২ ও ৬ আসনে ৮টি, চট্টগ্রাম-২, ১০, ১১, ১৪, ১৫ ও ১৬ আসনে ২৯৪টি, ফেনী-১ ও ৩ আসনে ৫৫টি এবং লক্ষ্মীপুর-২ ও ৩ আসনে ১২৫টি।

 

সেনাবাহিনীর কার্যক্রম : গতকাল রাজধানী ঢাকায় সেনাবাহিনী তথা র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবির যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এই মহড়ায় আয়োজন করে র‌্যাব-২। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য গত ১০ জানুয়ারি ৩৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। ২০ জানুয়ারি থেকে এক লাখ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সারা দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৬২টি জেলায় ৪১১টি উপজেলায় এবং মেট্রোপলিটন শহরগুলোতে সর্বমোট ৫৪৪টি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে নিয়মিত টহল, যৌথ অভিযান এবং চেকপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি অস্ত্র উদ্ধার ও শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ বিভিন্ন অপরাধী গ্রেফতার কার্যক্রম চলমান রেখেছে।

 

আকাশভিত্তিক প্রস্তুতি : নির্বাচনী মাঠে এবার নতুন মাত্রা যোগ করেছে আকাশপথের নিরাপত্তা। স্থলবাহিনীর পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমানের দ্রুত লজিস্টিক সহায়তা এবং ড্রোনভিত্তিক নজরদারি, সবমিলিয়ে নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে এক কৌশলগত ‘ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার’ সক্ষমতা। বিমানবাহিনীর তিন হাজার ৭৩০ সদস্য ইতোমধ্যে মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর সাথে যৌথ স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবেন তারা।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় শুধু স্থলভিত্তিক টহল বা চেকপোস্টের ওপর নির্ভর না করে আকাশপথেও নজরদারি ও লজিস্টিক সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। ঢাকা সেনানিবাসের বিএএফ ঘাঁটি বাশারের সি-১৩০ হ্যাঙ্গারে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের ব্রিফিং ও দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনে সরাসরি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ঐতিহ্যগতভাবে সেনাবাহিনী ও অন্যান্য বাহিনী কাজ করলেও এবারের নির্বাচনে বিমানবাহিনীর ভূমিকা হবে সময় বাঁচানো ও দক্ষতা বাড়ানো।

 

বিশেষ করে তিনটি ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, দ্রুত মোতায়েন ও লজিস্টিক সাপোর্ট : দুর্গম এলাকা, উপকূল বা দ্বীপাঞ্চলে স্বল্প সময়ে জনবল ও সরঞ্জাম পৌঁছে দিতে পরিবহন বিমান ও হেলিকপ্টার কার্যকর ভূমিকা রাখবে। দ্বিতীয়ত, আকাশ নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহ, ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ বা সংঘর্ষপ্রবণ এলাকা আগাম শনাক্ত করা সম্ভব হবে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে। তৃতীয়ত, জরুরি সাড়া প্রদানে সহিংসতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা চিকিৎসা সহায়তার মতো পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক এয়ার সাপোর্ট বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর সাথে সরাসরি মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন এক হাজার ২৫০ জন বিমান সেনা। বাকিরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত থাকবেন। আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ জেলার ৩৫ উপজেলায় তারা দায়িত্ব পালন করবেন। পুরো সময় তারা ‘মোবাইল রেসপন্স সিস্টেম’ হিসেবে কাজ করবেন।

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের নির্বাচনে একটি সমন্বিত নিরাপত্তাকাঠামো স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, র‌্যাব বা বিশেষায়িত ইউনিট, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী একই কমান্ড কাঠামোর অধীনে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এতে শুধু নিরাপত্তা জোরদারই হচ্ছে না, বরং দ্রুত সিদ্ধান্ত ও কার্যকর অপারেশন পরিচালনাও সহজ হচ্ছে। নির্বাচনকালীন সশস্ত্রবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জনমনে সংবেদনশীলতা থাকায় বিমানবাহিনী প্রধান বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার ওপর।

 

বিজিবির নিরাপত্তা : অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) শতভাগ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সোমবার থেকে দেশের প্রায় প্রত্যেকটি নির্বাচনী এলাকায় এক হাজার ২১০ প্লাটুন এবং ৩৫ হাজার থেকে ৩৭ হাজারের বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তারা দেশের ৬৪টি জেলার ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টিতে দায়িত্ব পালন করছেন। ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তসহ সব সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচার রোধে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গতকাল চাপাইনবাবগঞ্জ মাকসুদপুর সীমান্ত এলাকা থেকে দুইটি বিদেশী পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। সীমান্ত এলাকায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবি হেলিকপ্টার, ড্রোন, বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং ডগ স্কোয়াড (ক-নাইন) ব্যবহার করছে। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন টিম (র‌্যাট) সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও দুর্গম পার্বত্য এলাকায় হেলিকপ্টার সহায়তায় বিশেষ নিরাপত্তা চৌকি ও ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

 

উপকূলীয় ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা : উপকূলীয় ও দ্বীপাঞ্চল যেমন ভোলা, হাতিয়া, সন্দ্বীপ, কক্সবাজার এবং সেন্টমার্টিনে নিরাপত্তা নিশ্চিত গত সোমবার থেকে টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে নৌবাহিনী পাঁট হাজার ও কোস্টগার্ডের তিন হাজার সদস্য নিরাপত্তায় কাজ করবে।

 

পুলিশের স্ট্রাইকিং ও টহল দলের দায়িত্ব : সহিংসতা ও কেন্দ্র দখলের চেষ্টার খবর পাওয়ার সাথে সাধে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিমিত বলপ্রয়োগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কথা বলা হয়েছে স্ট্রাইকিং টিমের সদস্যদের। আইন লঙ্ঘনকারীদের আটক করতে হবে। টহল দল সম্পর্কে বলা হয়েছে, নির্ধারিত কেন্দ্রে পর্যায়ক্রমে নির্দিষ্ট সময় পরপর টহল দিতে হবে। এ ছাড়া এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তদারকি করতে হবে, যাতে ভোটার নির্বিঘেœ ভোটকেন্দ্রে আসা-যাওয়া করতে পারেন।

 

 


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ