বিশেষ প্রতিনিধি: কক্সবাজারের উখিয়ায় বসতভিটা দখলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এক সহিংস হামলায় নারী-পুরুষসহ অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, হামলাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও অত্যন্ত নৃশংস, যা এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
গত রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে রত্নাপালং ইউনিয়নের গয়ালমারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ইসহাক আহমদের বসতভিটা দখলের উদ্দেশ্যে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় তারা বাড়িঘরে ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালায়।
হামলায় গুরুতর আহতরা হলেন—মৃত আলী মিয়ার ছেলে ইসহাক আহমদ, তার স্ত্রী গুলজার বেগম, ছেলে খায়রুল আমিন এবং জহির আহমেদের স্ত্রী ছবুরা বেগম। হামলার সময় তারা ঘরের ভেতরে আশ্রয় নিয়েও রক্ষা পাননি বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে। পরে স্বজনরা তাদের হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় থানায় অভিযোগ দিয়েও তারা প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি। এ কারণে তারা আদালতে মামলা দায়েরের উদ্যোগ নিয়েছেন।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন-একই এলাকার মৃত আলী মিয়ার ছেলে জাফর ও কবির আহমদ, ছুরুত আলমের ছেলে ছৈয়দ করিম, ফকির আহমেদের ছেলে জসিম উদ্দিন, দরবেশ আলীর ছেলে ফরিদ আলম, হামিদুর রহমানের ছেলে মুফিজ উদ্দিন, সাহাব উদ্দিনের ছেলে আজিজুর রহমান ও মিজানুর রহমান এবং আবু তাহেরের ছেলে মোহাম্মদ আলীসহ আরও কয়েকজন।
ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা সিনেমার দৃশ্যের মতো হামলা চালিয়েছে এবং পরবর্তীতেও ভুক্তভোগীদের হত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের সামনেও হামলাকারীদের পক্ষ থেকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহমুদুল হক চৌধুরী অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।