শিরোনাম
একজন রূপকার—প্রোফেসর যোগেশ সিং লায়ন্স ও লিও ক্লাব অনির্বাণের চার্টার প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত তালায় মাদকের তথ্য দেওয়ায় গ্রাম পুলিশকে পেটাল মাদক কারবারিরা, জিডি চন্দনাইশে খুনিয়া পাড়া ইয়াং সোসাইটির অলিম্পিক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন  পোরশায় মাদকবিরোধী অভিযানে ০১ জন পেশাদার খুচরা মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার-২৫০ গ্রাম গাঁজা জব্দ।  ইন্দোরে শুরু হলো ১৮তম ভারতীয় সাংবাদিকতা উৎসব ২০২৬: মূল ভাবনা ‘জেন-জি’, সম্মানিত সংবাদমাধ্যমের কিংবদন্তিরা। পোরশায় আদিবাসী সমাবেশ ও ত্রি-বার্ষিক সমাবেশ ২০২৬ অনুষ্ঠিত।     নীলফামারীতে বিজিবির অভিযানে ১৮ পিস ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আটক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের লক্ষে নিতপুর দারুস সুন্নাহ সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় এক মা সমাবেশ ২০২৬ অনুষ্ঠিত।  হাজরাকাটি ব্লাড ডোনার্স ক্লাবের ১ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও আলোচনা সভা
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫২ অপরাহ্ন

সাহিত্যে জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি প্রাপ্ত বাংলাদেশ চা শ্রমিকের এক প্রতিভাবান নারী।

রিপোটারের নাম / ১০৪৯ বার পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ৭ জুলাই, ২০২৫

 

হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ জীবনের সকল প্রতিকূলতার সাথে লড়াই করে যারা এগিয়ে যেতে জানে সফলতা তাঁদের জন্যই অপেক্ষা করে। বলছি একজন চা-শ্রমিক নারী সংগীতা বোনার্জী’র কথা। যিনি জীবনের সকল প্রতিকূলতাকে জয় করে এগিয়ে গিয়েছেন সফলতার শীর্ষে। স্বীকৃতি পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়।

 

তিনি চা-শ্রমিকের একটি অনুপ্রেরণা। বাংলাদেশের চা-শ্রমিকের ইতিহাসের একজন অসাধারণ প্রতিভাবান নারী। কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন, দৃঢ় চেতনা ও অসীম আত্মবিশ্বাস হচ্ছে তাঁর সফলতার চাবিকাঠি। পারিবারিক ও সামাজিক সহস্র প্রতিবন্ধকতা কিছুতেই রুখতে পারেনি তাঁর এগিয়ে যাওয়ার পথচলাকে।

 

তিনি অনেক দিন থেকেই কাব্য রচনা করে এসেছেন। তার সেই জীবনের বাস্তবতামুখী কাব্য রচনা বিশেষ ভাবে স্থান পেয়েছে বাংলার সাহিত্যে। মনোনীত হয়েছেন বিভিন্ন যৌথ কাব্যগ্রন্থের নির্বাচিত কবি হিসেবে।

 

এভাবে বিভিন্ন সাহিত্য পরিষদ থেকে তিনি অর্জন করেছেন সাহিত্য সম্মাননা স্বারক ও সনদপত্র। দেশের কয়েকটি বই মেলায় তাঁর লেখা যৌথ কাব্যগ্রন্থ গুলো প্রকাশিত হয়েছে পর পর বিভিন্ন সাহিত্য ম্যাগাজিন ও সাহিত্য অনলাইন,অফলাইন পত্রিকায় যা পাঠক হৃদয়ে বিপুল সাঁড়া জাগিয়েছে।

 

তাঁর লেখনীতে, সত্য, ন্যায় ও মানবাধিকারের সংগ্রামী চেতনা ফুটে উঠেছে যা বাংলার সাহিত্যে বিশেষভাবে প্রভাব ফেলেছে। নারী জাগরণ মূলক একটি মননশীল অসাধারণ কাব্য রচনা(জেগে ওঠো নারী)করে তিনি ” লেখক লালন সাহিত্য পরিষদ”থেকে অর্জন করেছেন সেরা লেখক সন্মাননা ও “কলম সৈনিক” উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন।

 

পরিশেষে তিনি অর্জন করেছেন জাতীয় স্বীকৃতি। এপ্রিল ২০২৫ শে তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক স্বীকৃত ডিপার্টমেন্ট অফ আর্কাইভস অ্যান্ড লাইব্রেরীর উদ্যেগে একজন জাতীয় লেখক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।

 

একজন চা-শ্রমিক নারী হয়ে জাতীয় পর্যায়ে তাঁর এই স্বীকৃতি অর্জন আমাদের চা-শ্রমিক সমাজকে গর্বিত করে তোলেছে।

তাঁর এই স্বীকৃতি অর্জনের পিছনের ইতিহাসে রয়েছে সহস্র প্রতিকূলতার করুণ গল্প। জীবনের সব গুলো ঝড়ে কখনো তিনি মনোবল হারাননি,পথচলা থামিয়ে দেননি।

 

তিনি মানবাধিকার আইন,নারী ধর্ষণকারীদের জন্য যথোপযুক্ত বিচার ব্যবস্থা গ্রহণ ও নারী ধর্ষণ প্রতিরোধে জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো উল্লেখ পূর্বক বিভিন্ন নারী উন্নয়ন সংস্থার সাথে কাজ শুরু করেছেন। নারী আত্মনির্ভরশীলতা বিষয়টি নিয়ে একটি নারী জাগরণ মূলক কিশোরী ক্লাবের উদ্যোগ নিয়েছেন।

 

পেশাগত জীবনে তিনি একজন শিক্ষকা। চাকরি জীবন,পরিবার ও কাব্য রচনার পাশাপাশি তিনি নাটক ও লিখছেন। এবং তাঁর আর একটি অসাধারণ প্রতিভা হচ্ছে তিনি বাংলা ও হিন্দি এই দুই ভাষার গানের গীতিকার। KMJ VISION MUSIC YouTube channel এ তাঁর অসাধারণ গান গুলো রিলিজ হয়েছে।

 

ভাবা যায়, কতটা প্রভিতা, কতটা মনোবল থাকলে পারিবারিক, সামাজিক সকল প্রতিকূলতা এড়িয়ে একজন নারী এতটা মননশীল সাহিত্য রচনা করে জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি অর্জন করতে পারে। তাঁর এই স্বীকৃতি আমাদের চা-শ্রমিক সমাজের একটি মহান অর্জন। শুভ কামনা রইলো তিনি যেন আরো এগিয়ে যেতে পারেন ও আমাদের চা-শ্রমিক সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন।


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

;