শিরোনাম
স্থায়ী সচিব ছাড়াই দুই বছর, ছাতক পৌরসভার সেবা কতটা স্বাভাবিক? নেপালে নয় দিন পর টানেল থেকে জীবিত উদ্ধার হলেন দুই শ্রমিক। জুমার দিনের ফজিলত এবং দোয়া কবুলের বিশেষ সময়। ৬৪টি উপজেলায় ৬৪০ জন তরুণ উদ্যোক্তাকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা করে অর্থায়ন দেয়া হবে অর্ধেক থাকবে ব্যাংক ঋণ, বাকি অর্ধেক অনুদান। ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণচুক্তি সই করেছে সরকার। পোরশায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরের আয়োজনে ৫৩ তম গ্রীস্মকালীন ক্রিড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত। লিও ক্লাব অব চিটাগং অনির্বাণ’র চার্টার বর্ষ(২০২৬-২৭) এর কমিটি ঘোষণা পোরশায় উৎসব মুখর পরিবেশে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত । পোরশায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত।  চন্দনাইশে শহীদ হালিম লিয়াকত স্মৃতি বৃত্তি পরীক্ষায় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সনদ ও পুরস্কার বিতরণ
রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪১ পূর্বাহ্ন

স্থায়ী সচিব ছাড়াই দুই বছর, ছাতক পৌরসভার সেবা কতটা স্বাভাবিক?

সিলেট ব্যুরোঃ / ২৮ বার পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ছাতক প্রতিনিধি:
একজন সচিব, দুই পৌরসভা। এর মধ্যে একটি আবার এ গ্রেডের গুরুত্বপূর্ণ পৌরসভা। নিজ কর্মস্থলের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্বে অন্য পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রম চালাতে গিয়ে নিয়মিত উপস্থিত থাকতে পারছেন না দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। আর এ কারণেই নাগরিক সেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধীরগতি তৈরি হচ্ছে এমন অভিযোগ উঠেছে সুনামগঞ্জের ছাতক পৌরসভায়।

দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ছাতক পৌরসভায় নেই স্থায়ী সচিব। ২০২৪ সালের জুন মাস থেকে কানাইঘাট পৌরসভার সচিব শরদিন্দু রায় অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ছাতক পৌরসভার সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে নিজ কর্মস্থলের দায়িত্বের পাশাপাশি ছাতক পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজও তাঁকেই সামলাতে হচ্ছে। স্থানীয় নাগরিকদের প্রশ্ন একজন কর্মকর্তা যখন দুই পৌরসভার দায়িত্বে থাকেন এবং সপ্তাহের সব দিন ছাতক পৌরসভায় উপস্থিত থাকতে পারেন না, তখন নাগরিকদের দ্রুত ও নির্বিঘ্ন সেবা নিশ্চিত করা কতটা সম্ভব?

নাগরিকদের অভিযোগ, বর্তমানে পৌরসভার বিভিন্ন সেবা অনলাইননির্ভর হয়ে পড়েছে। নাগরিক সনদ, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং-সংক্রান্ত কাজ, বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্রসহ নানা সেবার জন্য অনলাইনে আবেদন করা গেলেও আবেদন অনুমোদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার উপস্থিতি ও সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হচ্ছে।

ফলে আবেদন করার পরও অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে অনেককে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অন্য পৌরসভায় থাকায় আবেদন নিষ্পত্তিতে সময় লাগছে বলে অভিযোগ সেবাগ্রহীতাদের।

পৌরশহরের গনক্ষাই গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের অভিজ্ঞতাও এমনই। নাগরিক সনদের জন্য অনলাইনে আবেদন করার পর একদিনে তাঁকে পৌরসভা ও উপজেলা কার্যালয়ে চারবার যাতায়াত করতে হয়েছে বলে জানান তিনি। মাহফুজুর রহমান বলেন, অনলাইনে আবেদন করার পর পৌরসভার সচিবের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। সচিব অনুমোদন না করলে আবেদনটি পৌর প্রশাসকের কাছে যায় না। কিন্তু অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব অন্য পৌরসভায় কর্মরত থাকায় তিনি ছাতকে না থাকায় আবেদনটি আটকে যায়। তিনি বলেন, পৌর প্রশাসকের সঙ্গে কথা বললে তাঁকে জানানো হয়, সচিব অনুমোদন দিলে আবেদনটি তাঁর কাছে আসার সঙ্গে সঙ্গে তিনি মোবাইল থেকেই অনুমোদন করে দেবেন। তাঁর প্রশ্ন, আগে অফলাইনে এক ঘণ্টার মধ্যেই নাগরিক সনদ পেয়েছি। এখন অনলাইনে আবেদন করেও একদিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে এটা কি সেবা সহজীকরণ? তিনি আরও বলেন, জরুরি প্রয়োজনে সনদটি দরকার ছিল। কিন্তু সময়মতো না পাওয়ায় তাঁর জরুরি কাজও ব্যাহত হয়েছে।

পৌরশহরের ভাজনামহল এলাকার বাসিন্দা এবং ছাতক পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল মাহমুদ বলেন, ছাতক একটি এ গ্রেড পৌরসভা। এখানে দীর্ঘদিন স্থায়ী সচিব না থাকাটা নাগরিকদের জন্য দুর্ভোগের কারণ হতে পারে। তিনি বলেন, একজন সচিবকে দিয়ে একই সঙ্গে দুই পৌরসভার দায়িত্ব পালন করানো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। ছাতক পৌরসভার নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত একজন স্থায়ী সচিব নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।

ছাতক পৌরসভার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা শরদিন্দু রায় বলেন, ২০২৪ সালের জুন মাসে ছাতক পৌরসভায় অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে যোগদান করেন তিনি। তাঁর মূল কর্মস্থল কানাইঘাট পৌরসভা। বর্তমানে সপ্তাহে কোনো কোনো সময় দুই দিন এবং কোনো কোনো সপ্তাহে তিন দিন ছাতক পৌরসভায় অফিস করেন। তিনি আরো বলেন, আমি যেদিন ছাতক পৌরসভায় থাকি না, সেদিন কোনো জরুরি কাজ থাকলে অফিসের কর্মচারীরা আমাকে জানালে কানাইঘাট থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করি। তিনি আরও বলেন, দেশের অনেক পৌরসভাতেই বর্তমানে সচিবের পদ শূন্য রয়েছে। এরপরও ছাতক পৌরসভার জরুরি কাজসহ তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করছেন। দুই পৌরসভার দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করতে তাঁর কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। নাগরিক ভোগান্তির বিষয়ে তিনি বলেন, নাগরিকদের কোনো ধরনের ভোগান্তি হচ্ছে না। তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো আবেদন বাকি থেকে যেতে পারে।

ছাতক পৌর প্রশাসক মো. মহি উদ্দিন বলেন, ছাতক পৌরসভা একটি বড় ও এ গ্রেডের পৌরসভা। এ হিসেবে এখানে একজন স্থায়ী সচিব থাকা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত পৌরসভার নাগরিক সেবা নিয়ে কোনো ধরনের ভোগান্তি বা অভিযোগ তাঁর কাছে আসেনি। দেশের অনেক পৌরসভাতেই বর্তমানে সচিবের পদ শূন্য রয়েছে। তারপরও নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক অসীম চন্দ্র বনিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেন।


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ