শিরোনাম
একজন রূপকার—প্রোফেসর যোগেশ সিং লায়ন্স ও লিও ক্লাব অনির্বাণের চার্টার প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত তালায় মাদকের তথ্য দেওয়ায় গ্রাম পুলিশকে পেটাল মাদক কারবারিরা, জিডি চন্দনাইশে খুনিয়া পাড়া ইয়াং সোসাইটির অলিম্পিক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন  পোরশায় মাদকবিরোধী অভিযানে ০১ জন পেশাদার খুচরা মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার-২৫০ গ্রাম গাঁজা জব্দ।  ইন্দোরে শুরু হলো ১৮তম ভারতীয় সাংবাদিকতা উৎসব ২০২৬: মূল ভাবনা ‘জেন-জি’, সম্মানিত সংবাদমাধ্যমের কিংবদন্তিরা। পোরশায় আদিবাসী সমাবেশ ও ত্রি-বার্ষিক সমাবেশ ২০২৬ অনুষ্ঠিত।     নীলফামারীতে বিজিবির অভিযানে ১৮ পিস ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আটক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের লক্ষে নিতপুর দারুস সুন্নাহ সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় এক মা সমাবেশ ২০২৬ অনুষ্ঠিত।  হাজরাকাটি ব্লাড ডোনার্স ক্লাবের ১ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও আলোচনা সভা
বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন

একজন রূপকার—প্রোফেসর যোগেশ সিং

রিপোটারের নাম / ১৫ বার পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬

 

দিল্লি: ২০২৬ সালের ৮ই অক্টোবর, যখন প্রোফেসর যোগেশ সিং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভাইস-চ্যান্সেলর) হিসেবে তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করছেন, তখন ভারতের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে যেন একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। এই দ্বিতীয় মেয়াদের মাধ্যমে প্রোফেসর সিং স্যার মরিস গ্যারের পর দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাত্র দ্বিতীয় উপাচার্য হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদ অর্জন করলেন। স্যার মরিস গ্য্যার ১৯৩৮ থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে সেবা দিয়েছিলেন। ১৯২২ সালের ১লা মে প্রতিষ্ঠিত দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের গল্পটি নিজেই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার এক চমৎকার ও মুগ্ধকর যাত্রা। এর শুরুর দশকের দিনগুলিতে বিশ্ববিদ্যালয়টি বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং আইনজ্ঞের হাতে লালিত ও রূপায়িত হয়েছিল; তাঁদের মধ্যে ছিলেন ড. হরি সিং গৌর (১৯২২-১৯২৬), ড. মতি সাগর (১৯২৬-১৯৩০), ড. আবদুল রহমান (১৯৩০-১৯৩৪), ড. রাম কিশোর (১৯৩৪-১৯৩৮) এবং স্যার মরিস গ্য্যার (১৯৩৮-১৯৫০)। তাঁদের অবদান এমন এক প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি স্থাপন করেছিল, যা পরবর্তীতে ভারতের উচ্চশিক্ষার অন্যতম প্রভাবশালী কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

 

প্রোফেসর যোগেশ সিং-এর পুনর্নিয়োগ একটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ২০২১ সালের ৭ই অক্টোবর প্রোফেসর যোগেশ সিং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩তম উপাচার্য হিসেবে যোগ দেন, এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যখন বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০২২ সালে তার শতবর্ষ পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ফলে, তাঁর কার্যকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রার অন্যতম ঐতিহাসিক একটি মাইলফলকের সাথে মিলে যায়। তিনি প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিদ্যার পটভূমি থেকে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন, যা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাগত এবং প্রশাসনিক নেতৃত্বে এক অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এসেছে।

দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য উপাচার্য হিসেবে তাঁর পুনরায় যোগদানের মুহূর্তে এই কলামটি লিখতে পেরে আমি অপার আনন্দ ও সন্তুষ্টি অনুভব করছি। ১৯৯৫ সাল থেকে একজন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শিক্ষক-অ্যাক্টিভিস্ট এবং একাডেমি এডমিনিস্ট্রেটর হিসেবে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আমার দীর্ঘ পথচলা আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক বিষয়াদি ও রূপান্তর খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করার সুযোগ করে দিয়েছে। তারচেয়েও বড় কথা, প্রোফেসর সিং-এর টিমের অংশ হিসেবে বিভিন্ন দায়িত্বে কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে—গান্ধী ভবনের পরিচালক, পিজি মেনস হোস্টেলের প্রভোস্ট, লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সাইন্স বিভাগের প্রধান এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন কমিটির (১৯২২–২০২২) সমন্বয়ক (কোঅর্ডিনেটর) হিসেবে।

মানুষ, স্থান ও কার্যক্রম: প্রাতিষ্ঠানিক বৃদ্ধির আসল পরিমাপ

যেকোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বৃদ্ধি শেষ পর্যন্ত পরিমাপ করা যায় তার অনুভূমিক ও উল্লম্ব প্রসারের মাধ্যমে—যেমন নিয়োগ, পদোন্নতি, নতুন পদ সৃষ্টি, নতুন অনুষদ (ফ্যাকাল্টি), বিভাগ ও কেন্দ্র স্থাপন, কলেজ প্রতিষ্ঠা, নতুন একাডেমিক প্রোগ্রাম চালু করা এবং সর্বোপরি আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ। এসবের মধ্যে নিয়োগ, পদোন্নতি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজ, বিশেষ করে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো অত্যন্ত বিশাল, বৈচিত্র্যময় এবং বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে প্রাণবন্ত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি জাতীয় একাডেমিক গবেষণাগার যেখানে শিক্ষাসংক্রান্ত ধারণা, নীতি ও সংস্কারসমূহ প্রায়ই তাদের প্রথম প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষার সম্মুখীন হয়। এর শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বিভিন্ন শৃঙ্খলা (ডিসিপ্লিন) এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের অসাধারণ বৈচিত্র্য প্রতিটি সংস্কারকে একাধারে চ্যালেঞ্জিং ও প্রভাবশালী করে তোলে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে—”মানুষ সবসময় আপনার কার্যপ্রণালী বা প্রক্রিয়ায় আগ্রহী নাও হতে পারে, তবে তারা শেষ পর্যন্ত আপনার চূড়ান্ত ফলাফলের প্রতিই আগ্রহী হয়। আর চমৎকার ও সফল ফলাফলই ইতিহাস সৃষ্টিকারী মাইলফলক হয়ে ওঠে।” আমার মূল্যায়নে, এই দর্শনটি প্রোফেসর যোগেশ সিং-এর প্রথম কার্যকালকে সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করে। তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদে (যা প্রায় ১,৮২৫ দিন জুড়ে বিস্তৃত), বিশ্ববিদ্যালয়টি একাডেমিক সম্প্রসারণ, প্রশাসনিক গতিশীলতা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের এক স্মরণীয় পর্যায় প্রত্যক্ষ করেছে। ঐতিহাসিক ‘ভাইস-রিগাল লজ’ (যা ‘হোয়াইট হাউস অফ দ্য ইউনিভার্সিটি’ নামেও পরিচিত) এই রূপান্তরের কেন্দ্রে পরিণত হয়। ১৯০২ সালে নির্মিত এই অসাধারণ ঐতিহ্যবাহী ভবনটি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়ার আগে ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয়দের বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হতো, যা প্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাসের এক শক্তিশালী ভিত্তি গঠন করে।

১৬,০০০ পরিবার: সংখ্যার চেয়েও বেশি কিছু

প্রথম মেয়াদের অন্যতম সেরা অর্জন ছিল শিক্ষক ও অ-শিক্ষক কর্মীদের বিশাল আকারের নিয়োগ এবং পদোন্নতি, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এক বিরাট পদক্ষেপ। বিভিন্ন কলেজে ৪,৫৫৪ জন সহকারী অধ্যাপক (অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোফেসর) এবং ৪০ জন অধ্যক্ষ (প্রিন্সিপাল) সহ আনুমানিক ৫,৫৮১টি শিক্ষক ও অ-শিক্ষক পদ পূরণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ২৯৪ জন সহকারী অধ্যাপক, ১৬২ জন সহযোগী অধ্যাপক (অ্যাসোসিয়েট প্রোফেসর) এবং ৫২ জন অধ্যাপক নিয়োগ পান। এর পাশাপাশি, গ্রুপ-এ কর্মকর্তাসহ ৪৭৯টি অ-একাডেমিক পদে কর্মী নিয়োগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও সুদৃঢ় করা হয়েছে। শিক্ষক ও অ-শিক্ষক উভয় ক্যাডারেই অভূতপূর্ব মাত্রায় পদোন্নতি প্রদান করাও একইভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।

 

 


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

;