বিশেষ প্রতিনিধি : এসএসসি পরীক্ষা নকলমুক্ত করার লক্ষ্যে সিসি ক্যামেরার ব্যবহার এবং এর নানাবিধ চ্যালেঞ্জ নিয়ে গত ৪ঠা মার্চ রাজধানীর উত্তরা সিটি কলেজ কনফারেন্স হলে এক জাতীয় গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘এসোসিয়েশন ফর গুড গভর্নেন্স ইন বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকের মূল প্রতিপাদ্য ছিল— “প্রযুক্তি বনাম নৈতিকতা: এসএসসি পরীক্ষায় সিসি ক্যামেরা ও নকলমুক্ত আগামীর চ্যালেঞ্জ”।
শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির সরকার ও রাজনীতি বিভাগের বিভাগীয় চেয়ারম্যান , উত্তরা সিটি কলেজ,ও এসোসিয়েশন ফর গুড গভর্নেন্স ইন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান জাতীয় রাষ্ট্রচিন্তাবিদ অধ্যাপক ড. এম মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন তৃণমূল টিভির সম্পাদক ও কলেজের মার্কেটিং বিভাগের প্রভাষক মোঃ আব্দুর রহমান। অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার ছিল কল্লোল টিভি।
গোলটেবিল বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়সমূহ:
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সিসি ক্যামেরা ব্যবহারের সুফল ও কুফল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। আলোচনার মূল নির্যাস নিচে তুলে ধরা হলো:
শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও ভীতি: বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সিসি ক্যামেরা যেন শিক্ষার্থীদের জন্য ভীতিকর না হয়। অনেক শিক্ষার্থী ক্যামেরার উপস্থিতিতে ঘাবড়ে গিয়ে স্বাভাবিক সৃজনশীলতা হারিয়ে ফেলে। নজরদারি হতে হবে বন্ধুত্বপূর্ণ, শাস্তিমূলক নয়।
অবকাঠামোগত বৈষম্য: অতিথিরা উল্লেখ করেন, শহরের কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা থাকলেও গ্রামে যদি না থাকে, তবে তা বৈষম্য তৈরি করবে। এতে শহরের শিক্ষার্থীরা চাপে থাকবে এবং গ্রামের কিছু কেন্দ্রে নকলের সুযোগ থেকে যেতে পারে। তাই দেশজুড়ে অভিন্ন অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রশ্ন পদ্ধতির আধুনিকায়ন: কেবল প্রযুক্তি দিয়ে নকল ঠেকানো সম্ভব নয়। মুখস্থবিদ্যার চেয়ে সৃজনশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রশ্ন পদ্ধতির আধুনিকায়ন করলে নকলের প্রবণতা এমনিতেই কমে আসবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দেন।
নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব: যান্ত্রিক শাসনের চেয়ে শিক্ষার্থীদের নৈতিক মানোন্নয়ন এবং উন্নত প্রশ্ন পদ্ধতির মাধ্যমে একটি সুস্থ পরীক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারী অতিথিবৃন্দ:
গোলটেবিল বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন:
মোঃ আবু সাঈদ, প্রধান শিক্ষক, টি এন টি কলোনী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়।
মোহাম্মদ জিয়ারুল হক, প্রধান শিক্ষক, কাদেরিয়া টেক্সটাইল মিলস আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়।
মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন, প্রধান শিক্ষক, সিলমুন আব্দুল হাকিম মাস্টার উচ্চ বিদ্যালয়।
আনোয়ার হোসেন, প্রধান শিক্ষক, আশরাফ টেক্সটাইল মিলস হাই স্কুল।
মোঃ আবু, প্রধান শিক্ষক, জাহিদ শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়।
সভাপতির বক্তব্যে ড. এম মিজানুর রহমান বলেন, “আমরা একটি স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরীক্ষা ব্যবস্থা চাই, তবে তা যেন শিক্ষার্থীর মানসিক বিকাশে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়। প্রযুক্তিকে আমরা সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করব, কিন্তু আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হতে হবে শিক্ষার্থীদের নৈতিক পরিবর্তন ও শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা।”
অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে তাদের সুচিন্তিত মতামত ব্যক্ত করেন।