এইচটি বাংলা ডেস্ক : বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে। আমাদের সংগ্রাম কিন্তু শেষ হয়নি। আমাদের সেই গণতান্ত্রিক উত্তরণ এখনও হয়নি।
আজ রোববার (২০ এপ্রিল) বিকালে এক স্মরণসভায় বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা তুলে ধরে তিনি এ মন্তব্য করেন। রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে দলের প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের স্মরণে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডির বাসায় আবদুল্লাহ আল নোমান মারা যান।
প্রয়াত নেতা আবদুল্লাহ নোমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তার অনুসরণীয় পথে শ্রমিক দলের নেতাকর্মীদের চলার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।
আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা নির্বাচনের মধ্যদিয়ে একটা নির্বাচিত সরকার ও পার্লামেন্ট এখনো পাইনি। সেজন্য আমাদেরকে অত্যন্ত সাবধানতার সঙ্গে, দৃঢ়তার সঙ্গে, সচেতনতার সঙ্গে আমাদেরকে কিন্তু কাজ করতে হবে, দলকে আরও সুদৃঢ় করতে হবে, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, এই সময়টা আমাদের পরীক্ষার সময়। আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন, পত্রপত্রিকা, টেলিভিশন, টকশো সব কিছু দেখছেন…দেশে কেমন একটা অস্থিরতা চলছে।
‘কতগুলো নির্ধারিত বিষয়কে অনির্ধারিত করে ফেলেছি…অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে’, উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে সংস্কার, নির্বাচন এই কথাগুলো অনেক বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। এই বিষয়গুলো আমরা মনে করি, সবার উচিত হবে… সব রাজনৈতিক দল-গোষ্ঠির দায়িত্ব হবে অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আমাদের এখানে নজরুল ইসলাম খান ভাই আছেন, তিনি প্রতিদিন এই সংস্কারের বিষয়গুলো নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন। আমরা আমাদের প্রস্তাবগুলো দিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি যে, একটা আলোচনার মাধ্যমে সত্যিকার অর্থেই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটা সমাধান বেরিয়ে আসবে। একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই জনগণের প্রতিনিধিত্ব পাবো।
পারভেজ হত্যাকারীরা গণতন্ত্রের পক্ষে না
বিএনপি মহাসচিব বলেন, কিছুক্ষণ আগে আমি জানতে পারলাম আমাদের একজন ছাত্রদল কর্মী প্রাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের মো. জাহেদুল ইসলাম পারভেজকে হত্যা করা হয়েছে। কারা হত্যা করেছে আমরা জানি না। তবে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, যারা এই সময়ে একজন ত্যাগী ছাত্র নেতাকে হত্যা করতে পারে তারা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের এই পরিবর্তনে আন্দোলনের সঙ্গে কোনো মতেই সংযুক্ত ছিল না।
মির্জা ফখরুল বলেন, যারা আজকে বাংলাদেশে বিভাজন সৃষ্টি করতে চায় তারা কখনই বাংলাদেশের পক্ষের মানুষ নন। তারা গণতন্ত্রের পক্ষের মানুষ নন।
‘শ্রমিকদের সংস্কার কোথায়’
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা ইচ্ছা হচ্ছিল নজরুল ইসলাম খান ভাইকে জিজ্ঞাসা করি এতো সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে কিন্তু শ্রমজীবী মানুষদের… শ্রমিকদের কথা তো কোথাও শুনতে পারছি না। আমাদের ৩১ দফার মধ্যে শ্রমজীবী মানুষের কথা আছে, কিন্তু এই সংস্কার কমিশনের মধ্যে এ নিয়ে কী আছে আমি জানি না। কৃষকরা তার পণ্যের ন্যায্য মূল্য পায় না, পানি পায় না যখন পানির প্রয়োজন হয় সেচের জন্য, তাদের (শ্রমিকদের) সমস্যার সমাধান হয় না, শ্রমিকদের সন্তানেরা ভালো স্কুলে যেতে পারে না, স্কুলে গেলেও বেই পায় না…সেই কথাগুলো আলোচনা হয় না।
গত ১৫ বছরের আন্দোলন কতজন শ্রমিক আত্মাহুতি দিয়েছে, নির্যাতন হয়েছে তার তালিকা শ্রমিক দলের তৈরি করা উচিত বলে মনে করেন বিএনপি মহাসচিব।
শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর সঞ্চালনায় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস প্রমুখ বক্তব্য দেন।
এ সময় প্রয়াত নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান আলোচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Enter your key to unlock the system.
Don't have a key? Pay and submit the form below.
Order Submitted Successfully! We will contact you soon.
Enter your key to unlock the system.
Don't have a key? Pay and submit the form below.
Order Submitted Successfully! We will contact you soon.